অস্থি মানবদেহের কাঠামো প্রদান করে। হাড়ের বৃদ্ধির সাথে সাথে দৈহিক উচ্চতা বৃদ্ধি পেতে থাকে। এক পর্যায়ে আর হাড়ের বৃদ্ধি ঘটে না তখন আর দৈহিক বৃদ্ধি ঘটে না। সাধারণত ১৮ বছর পর্যন্ত মানুষের দৈহিক বৃদ্ধি ঘটে। পরে উচ্চতা না ঘটলেও হাড়ের পার্শ্বিক বৃদ্ধি চলতে থাকে ফলে মানুষের উচ্চতা না বাড়লেও পার্শ্বিক বৃদ্ধি ঘটতে থাকে। বৃদ্ধ বয়সে হাড়ের ঘনত্ব কমে যায় ফলে হাড়ের উচ্চতাও কিছুটা কমে যেতে পারে এবং মানুষের উচ্চতা কিছুটা কমে। প্রধানত মেরুদন্ডের হাড় বা কশেরুকার ঘনত্ব কমে গিয়ে এটি ঘটতে পারে। মেরুদন্ড বাঁকা হয়ে গেলে দেহও কিছুটা বাঁকা হয়ে যেতে পারে।
- অস্থি মানবদেহের গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গকে বাহ্যিক আঘাত থেকে রক্ষা করে। যেমন- আমাদের করোটি মস্তিষ্ককে ঢেকে রাখে। একই ভাবে বক্ষপিঞ্জর দ্বারা আমাদের হৃদপিন্ড,ফুসফুস এমনকি যকৃতের প্রায় সমস্ত অংশই সুরক্ষিত।
- অস্থি আমাদের চলাচল,নড়াচড়া ইত্যাদিতে সাহায্য করে। অস্থি মায়ংসপেশির সাথে যুক্ত থাকে এবং মাংসপেশীর সংকোচনের ফলে দেহের নড়াচড়া বা চলাফেলা সম্পন্ন হয়।
- হাড়ের মধ্যে অবস্থিত লোহিত অস্থিমজ্জা থেকে রক্তকণিকা উৎপন্ন হয়। আমাদের দেহে ৩ ধরনের রক্তকণিকা পাওয়া যায়। যথা:-
- লোহিত রক্তকণিকা
- শ্বেত রক্তকণিকা
- অনুচক্রিকা
- এই কণিকা গুলো লোহিত অস্থিমজ্জা থেকে তৈরী হয়। মানুষের বয়স বৃদ্ধির সাথে সাথে লোহিত অস্থিমজ্জার পরিমান কমতে থাকে এবং তা হলুদ অস্থিমজ্জা দ্বারা প্রতিস্থাপিত হয়।হলুদ অস্থিমজ্জায় মেদকলা থাকে । এবং এটি থেকে কোন রক্তকণিকা তৈরি হয় না।
- অস্থি শরীরে ক্যালসিয়ামের মাত্রা নিয়ন্ত্রণ করে । মানবদেহের মোট ক্যালসিয়ামের ৯৭% অস্থিতে বিদ্যমান । রক্তে ক্যালসিয়ামের মাত্রা কমে গেলে প্যারাথাইরয়েড হরমোন নি:সৃত হয় যা হাড় থেকে ক্যালসিয়াম রক্তে সরবরাহ করে । রক্তে ক্যালসিয়ামের মাত্রা কমে গেলে মৃত্যুও হতে পারে ।



.jpg)
.jpg)

.jpg)






