×

তেল ও ঘামমুক্ত ত্বক

সংবাদ প্রতিনিধি ০১:৪১ মিঃ, এপ্রিল ১৬, ২০১৯ Views : 1024

তেলমুক্ত ক্রিম, লোশন ও ফেসওয়াস ব্যবহার করুন। যাদের মুখ তৈলাক্ত তাদের জন্য এটি বিশেষভাবে প্রযোজ্য। এছাড়া-• সানস্ক্রিন ব্যবহার করুন। ক্রিমের উপর হালকা করে পাউডার লাগাতে পারেন। • পাতিলেবুর রস তুলায় ভিজিয়ে ত্বকে দুবার লাগাতে পারেন। অতিরিক্ত ঘাম ত্বকের আর্দ্রতা কমিয়ে ফেলে। ফলে লোমকূপের গোড়ায় বাসা বাঁধে রোগজীবাণু। এর থেকে ঘামাচি হয়। অতিরিক্ত ঘামাচির কারণে ত্বকে বাদামি বর্ণের হয়ে যায়। তাই ঘাম বেশি হলেও তাড়াতাড়ি মুছে ফেলার চেষ্টা করুন। নিয়মিত গোসল করুন। প্রচুর পানি পান করুন। এছাড়া-• যাদের ত্বকে নিয়মিত ঘামাচি হয়, তারা নিমপাতার রস লাগাতে উপকার পাবেন। • তেতো জাতীয় খাবার খান।• ঘাম বেশি হলে ট্যালকম পাউডারের সঙ্গে একচিমটি খা ওয়ার সোডা ব্যবহার করতে পারেন। • নিয়মিত ডিওডোরান্ট ও বডিস্প্রে ব্যবহার করুন। খোস- পাচঁড়া একপ্রকার পরজীবীজনিত রোগ। Sarcopes scabiei নামক একপ্রকার পরজীবী এর জন্য দায়ী । এটি অত্যন্ত ছোঁয়াচে রোগ । আক্রান্ত ব্যক্তির সংস্পর্শে আসলে এতে আক্রান্ত হওয়ার সম্ভাবনা অনেক বেশি । এ রোগ খুব বিব্রতকর । এর প্রধান উপসর্গ হলঃ সারা শরীরে চুলকানি , ত্বকে লম্বাটে দাগ বা ক্ষত হওয়া , যা ফাঁকে , আঙ্গুলের ,ফাঁকে কবজিতে, বগলে পেটে ও কুঁচকিতে বেশি হয় । এ রোগে আক্রান্ত হলে পরিবারের সবার চিকিৎসা নেয়া আবশ্যক । নয়তো পরিবারের এক সদস্য থেকে অন্য সদস্য আক্রন্ত হতে পারে । পরিবারের সবাইকে চিকিৎসার পাশাপাশি পরিধেয় সব পোশাক ও বিছানার চাদরও ধুয়ে ফেলা উচিত কেননা পরজীবী বা তার ডিম এগুলোতে সুপ্ত অবস্থায় থাকে যা পরে আবার খোস – পাঁচড়া সৃষ্টি করতে পারে । ত্বকের জন্য সূর্যালোক খুব উপকারী । সূর্যালোক ত্বকের কোলেস্টেরল থেকে ভিটামিন – ডি তৈরীতে সাহায্য করে । এ কারনে দীর্ঘদিন সূর্যালোকের অভাবে দেহে ভিটামিন – ডি এর অভাব হতে পারে । এজন্য প্রতিদিন অন্তত ১৫-৩০ মিনিট সূর্যালোকে অবস্থান করা ভালো । তবে অতিরিক্ত সূর্যরশ্মি দেহের জন্য ক্ষতিকর ।সূর্যের আলোতে আল্ট্রভায়োলেট থাকে যা বেশিক্ষণ ত্বকের সরাসরি সংস্পর্শে আসলে ত্বকের ক্ষতি হতে পারে। রোদে বেশি সময় থাকলে অনেকের চুলকানি হয় এবং ত্বক লাল হয়ে ফুলে ওঠে। একে আলোকসংবেদনশীলতা বলে। এ সমস্যা হলে রোদে যাওয়ার আধা ঘণ্টা আগে সানস্ক্রিন ব্যবহার করা এবং রোদচশমা পড়ে বের হওয়া উত্তম। চোখে সরাসরি বেশিক্ষণ সূর্যরশ্মি পড়লে তা চোখকে ক্ষতিগ্রস্ত করে। ত্বকের ক্যান্সার খুব মারাত্মক ব্যাধি। প্রাথমিক অবস্থায় চিকিৎসা না করালে এটি নিরাময় করা দুঃসাধ্য। ত্বকের ক্যান্সার বংশগত ও পরিবেশগত উভয় কারণে হয়ে থাকে। পরিবেশগত কারণের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হল-  ত্বকে ক্ষতিকর রশ্মি যেমন- গামারশ্মি বা এক্সরশ্মি পতিত হলে তা ত্বকে ক্যান্সার তৈরী করতে পারে।একারণেই পারমাণবিক গবেষণাগার বা এক্সরে গবেষণাগারে কর্মজীবীদের ক্যান্সারে আক্রান্ত হওয়ার সম্ভাবনা বেড়ে যায়।  ত্বকে কিছু ভাইরাস সংক্রমণ হলেও তা ক্যান্সার হতে পারে। যেমন- এইচ. আই. ভি সংক্রমণ হলে এইডস রোগ হয়। এ রোগে মানুষের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমত কমে যায় এবং হার্পিস সারকোমা নামক ত্বকের ক্যান্সারের কারণ।  সূর্যরশ্মির অতিবেগুনি রশ্মি ত্বকে ক্যান্সার করতে পারে। ত্বকে মেলানিন নামক রঞ্জক পদার্থ সূর্যের ক্ষতিকর অতিবেগুনি রশ্মি থেকে ত্বককে রক্ষা করে। মেলানিনের অভাব থাকলে যেমন- অ্যালবিনিজম বা শ্বেতীরোগ হলে ত্বকের ক্যান্সার হওয়ার সম্ভাবনা অনেক বেড়ে যায়। কালো থেকে সাদা চামড়া দের ত্বকের ক্যান্সারের ঝুঁকি বেশি। বিভিন্ন রাসয়নিক পদার্থের সংস্পর্শে দীর্ঘদিন থাকলেও তা ত্বকে ক্যান্সার তৈরী করতে পারে। যেমন- আরোমেটিক হাইড্রোর্কাবন ও বিভিন্ন রঞ্জক পদার্থ ইত্যাদি।