রক্তশূন্যতা বা অ্যানিমিয়া (Anemia) বলতে রক্তে হিমোগ্লোবিন এর পরিমাণ বা লোহিত রক্তকণিকার পরিমাণ বয়স, লিঙ্গ, জাতি বা বর্ণ ভেদে স্বাভাবিক মাত্রার চেয়ে কমে যাওয়াকে বুঝায়।
শিশুদের বয়স ভেদে নরমাল হিমোগ্লোবিনের পরিমাণঃ
| বয়স (বছর) | হিমোগ্লোবিন (গ্রাম/ডেসিলিটার) |
| নবজাতক ০.৫ - ১.৯(৬ মাস -২ বছর) ২ - ৪ ৫ - ৭ ৮ - ১১ ১২ - ১৪ (মেয়ে) ১২ - ১৪ (ছেলে) ১৫ - ১৭ (মেয়ে) ১৫ - ১৭ (ছেলে) ১৮ (মেয়ে) ১৮ (ছেলে) | ১৩ - ২০ ১২.৫ ১২.৫ ১৩.০ ১৩.৫ ১৩.৫ ১৪.০ ১৪.০ ১৫.০ ১৪.০ ১৬.০ |
অ্যানিমিয়ার কারণসমূহঃ
পুষ্টিহীনতা :
আয়রনের অভাব
ফলিক এসিড ও ভিটামিন বি-১২ এর অভাব
প্রোটিন - শক্তি অপুষ্টি
জেনেটিক কারণ :-
থ্যালাসেমিয়া
হিমোগ্লোবিন ভ্যারিয়েন্ট
G6PD এনজাইম ঘাটতি
সংক্রামক কারণসমূহ :-
হেলমিন্থিয়াসিস
ম্যালেরিয়া
কালাজ্বর
অন্যান্য কারণসমূহঃ
* অ্যাকিউট লিউকেমিয়া
* অ্যাপ্লাস্টিক অ্যানিমিয়া(Aplastic Anemia)
* দীর্ঘস্থায়ী রোগজনিত অ্যানিমিয়াঃ দীর্ঘস্থায়ী কিডনী রোগ, দীর্ঘস্থায়ী যকৃতের রোগ।
* আয়রনের অভাবে অপর্যাপ্ত হিমোগ্লোবিন উৎপাদন শিশু কিশোরদের রক্তশূন্যতার প্রধান কারণ।
* সারা বিশ্বে বিশেষ করে উন্নয়নশীল দেশগুলোতে প্রায় ৩০% মানুষ আয়রনের অভাবজনিত কারণে অ্যানিমিয়ায় আক্রান্ত হয়।
প্রতিদিন দেহের আয়রনের চাহিদাঃ ৮-১০ মিলিগ্রাম
শিশুদের আয়রনের অভাবজনিত কারণে অ্যানিমিয়া কারণ, উপসর্গ ও প্রতিকার
আয়রনের অভাবজনিত রক্তশূন্যতার কারণসমূহ
১। পুষ্টিজনিত অভাবঃ
* অপর্যাপ্ত পুষ্টি
* দীর্ঘদিন ধরে অতিরিক্ত গরুর দুধ পান
* খাবারে আয়রনের ঘাটতি
২। অতিরিক্ত চাহিদাঃ
* প্রিমেচিউর বেবি বা পূর্ণ গর্ভধারণের যথাযথ সময়ের পূর্বেই জন্মগ্রহণকারী নবজাতক
* স্বল্প ওজনের নবজাতক (<২.৫ কেজি)
* কিশোর-কিশোরীদের বাড়ন্ত বয়স
৩। খাদ্য পরিপাকে সমস্যাঃ
* খাদ্য শোষণজনিত সমস্যা বা ম্যালঅ্যাবসোরপশন
* আইবিডি বা ইনফ্ল্যামেটরি বাউয়েল ডিজিজ
* দীর্ঘস্থায়ী ডায়রিয়া
৪। অতিরিক্ত ক্ষয়ঃ
>> প্রসবকালীন সময়েঃ
* নাভিরজ্জু ঠিকমত না বাঁধা
* প্লাসেন্টা প্রিভিয়া বা প্রসবের পূর্বেই অ্যামনিয়োটিক রস বের হওয়া
* গর্ভফুল প্রসবের পূর্বেই জরায়ু হতে আলাদা হয়ে যাওয়া
>> প্রসব পরবর্তীকালীন সমস্যাঃ
* গরুর দুধ হজমে সমস্যা হলে
* হুক ওয়ার্ম সংক্রমণ
* অন্ত্রে আলসার বা ক্ষত, পাইলস ইত্যাদির কারণে রক্তক্ষরণ
* গ্যাস্ট্রাইটিস
শিশুদের আয়রনের অভাবজনিত রক্তশূন্যতার লক্ষণসমূহ
* ফ্যাকাসে ভাব
* ক্লান্তি
* খিটখিটে মেজাজ
* অরুচি
* ওজন হ্রাস
* বুক ধড়ফড়ানি
* মনোযোগে ঘাটতি
* ঠোঁটের কিনারায় ঘা
* স্নায়ুদুর্বলতা
* বুদ্ধিবৃত্তি হ্রাস
* ময়লা খাবার বা অখাদ্য জিনিসের প্রতি আকর্ষণ, যাকে ‘পিকা’ বলে।
পুষ্টি পরামর্শ
* প্রথম ৬ মাস শুধু বুকের দুধ পান
* প্রিটার্ম স্বল্প ওজনের বাচ্চাদেরকে জন্মের পর ৩য় সপ্তাহ থেকে ৬ মাস পর্যন্ত আয়রন সাপ্লিমেন্টেশন দিতে হবে।
* ৬ মাস পর থেকে আয়রন সমৃদ্ধ খাবার খাওয়াতে হবে।
* কৃমির ঔষধ ডাক্তারের পরামর্শমত সেবন করাতে হবে।
মুখে যে ওষুধের মাধ্যমে আয়রনের অভাব পূরণ করা যায়
* মূল উপাদানঃ ফেরাস সালফেট
* ফর্মুলেশনঃ ক্যাপসুল বা সিরাপ হিসেবে পাওয়া যায়।
* ডোজঃ ৩-৬ মিগ্রা/কেজি/দিন, মোট দিনে ৩ বার
* চিকিৎসার ব্যাপ্তিকালঃ
● কমপক্ষে ৬-৮ সপ্তাহ পর্যন্ত ঃ রক্তে হিমোগ্লোবিন ও লোহিত কণিকার পরিমাণ স্বাভাবিকে আসা পর্যন্ত।
● সাধারণত হিমোগ্লোবিনের পরিমাণ স্বাভাবিকে আসতে ৮-১২ সপ্তাহ সময় লাগে।
● তাই সাধারণত ৩-৪ মাস আয়রন রিপ্লেসমেন্ট থেরাপি দেয়া হয়।
আয়রন ঔষধ সেবনের পার্শ্ব প্রতিক্রিয়াসমূহঃ
* নস্যি
* পেটে ব্যথা
* মুখে বিস্বাদ লাগা
* কোষ্ঠকাঠিন্য
চিকিৎসা
* পুষ্টি পরামর্শ
* আয়রনের অভাব পরিপূরণঃ
● মুখে ওষুধের মাধ্যমে বা
● শিরাপথে ইঞ্জেকশনের মাধ্যমে
* রক্ত সঞ্চালন
শিরাপথে আয়রন রিপ্লেসমেন্টের নির্দেশিকাঃ
নিম্নোক্ত ক্ষেত্রে আয়রন ঔষধ শিরাপথে দিতে হয়ঃ
* যখন মুখে সেবনে কাজ হয় না।
* আয়রন পরিশোষণে ব্যাঘাত ঘটা, সাধারণত ক্ষুদ্রান্ত্রে রোগ থাকলে এরকম হয়।
* পাকস্থলি, অন্ত্রে কোন রোগের কারণে রক্তক্ষরণ হওয়া।
রোগ নির্ণয়ে যে সকল পরীক্ষা করানো দরকার
* রক্ত পরীক্ষা : সিবিসি (হিমোগ্লোবিন সহ)
* রক্তের আয়রন প্রোফাইল
* মল পরীক্ষা : রক্তকণিকা দেখার জন্য। একে বলে ‘অকাল্ট ব্লাড টেস্ট’




.jpg)

.jpg)






