- দাঁত মাজাঃ প্রতিদিন অন্তত দুই বার সকালে ও রাত্রে দাঁত মাজা উচিত। খাবার পর দাঁত মাজা অন্ত্যত ভালো অভ্যাস। সকালে ঘুম থেকে উঠে এবং রাত্রে খাবার পর অবশ্যই দাঁত মাজা উচিত। রাতে দাঁত মেজে ঘুমালে দাঁতের ফাঁকে খাদ্য জমে থাকার সম্ভবনা কম থাকে। আর খাদ্য জমে থাকলে জীবাণু সংক্রমণ হতে পারে এবং পরবর্তীতে দাঁতে ক্ষয়রোধ কম হতে পারে। সুতরাং নিয়মিত দাঁত মাজার অভ্যাস দাঁতের সুরক্ষার জন্য গুরুত্বপূর্ণ। দাঁতের সঠিক যত্নের জন্য ব্রাশ ভালো মানের হওয়া চাই। দাঁত উপর-নিচ ব্রাশ করা উচিত। এতে দাঁতে ফাঁকে জমে থাকা খাদ্যকণা বের হয়ে আসে। আবার শুধু দাঁতের বাইরের অংশ নয়, দাঁতের উপরের অংশ,ভেতরের অংশ সবদিকেই সমানভাবে ব্রাশ করা উচিত। নতুবা ময়লা খাদ্যকণা জমে থাকতে পারে। আগেই বলা হয়েছে যে, আমাদের মুখে অনেক জীবাণু বাস করে যা ক্ষতিকর নয় কিন্তু মুখে বা দাঁতের ফাঁকে খাদ্যকণা জমে থাকলে তাতে জীবাণু সংক্রমণ হতে পারে। দাঁত পরিস্কার উদ্দেশ্য হল দাঁতের আবরণ ও দাঁতের ফাঁকে অবস্থানরত ব্যাকটেরিয়ার সংক্রমণ প্রতিরোধ করা। অধিকাংশ দন্তচিকিৎসক শক্ত প্রকৃতির ব্রাশের পরিবর্তে নমনীয় প্রকৃতির টুথব্রাশ ব্যবহারের পরামর্শ দিয়ে থাকেন। কেননা শক্ত ব্রাশ ব্যবহারে দাঁতের এনামেল নষ্ট হয়ে যায় এবং মাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়।
- মাউথওয়াশ ব্যবহারঃ মাউথওয়াশ মুখের দুর্গন্ধ দূর করতে অনেকে ব্যবহার করে থাকেন। কিন্তু মাউথওয়াশ শুধু মুখের দুর্গন্ধ দূর করে না, একইসাথে মুখের জীবাণু বিস্তার রোধে সাহায্য করে। এমনকি মুখ পরিস্কার করতেও মাউথওয়াশের বিকল্প নেই। মাউথওয়াশ না থাকলে সামান্য গরম পানিতে লবণ নিয়ে কুলকুচি করলেও উপকার পাওয়া যায়। তবে মাউথওয়াশ ব্যবহার করতে গিয়ে তা যেন গিলে ফেলা না হয় তা লক্ষ্য রাখতে হবে। এক্ষেত্রে শিশুদের মাউথওয়াশ ব্যবহারে সতর্ক হওয়া আবশ্যক।
- মুখের সঠিক যত্নর জন্য পান, তামাক, জর্দ্দা ইত্যাদি পরিহার করা আবশ্যক। দীর্ঘদিন এগুলো সেবনের ফলে মুখ ও দাঁতের মারাত্নত ক্ষতি হয়। জিহবার স্বাদ নষ্ট হয়। দাঁতের ক্ষয়রোগের পাশাপাশি মুখের ক্যান্সারও হতে পারে।
- ধূমপান মুখ ও দাঁতের অত্যন্ত ক্ষতিকর। ধূমপানের ফলে মুখে ও জিহবায় ক্যান্সার হওয়ার সম্ভবনা থাকে। এক্ষেত্রে সে সময় ক্ষতি বোঝা না গেলেও দীর্ঘদিন পরে ক্যান্সার হতে পারে। এমনকি শুধু মুখ নয় গলা, খাদ্যনালী, শ্বাসনালী এমনকি ফুসফুসের ক্যান্সার হতে পারে। সুতরাং, ধূমপান পরিত্যাগ অপরিহার্য।
- যে সব মা তাদের সন্তানদের ফিডার দিয়ে দুধ খাওয়ান তাদের সন্তানদের দাঁতের রোগ ঝুঁকি বেশি। সুতরাং ফিডার না দেওয়াই উত্তম। আর ফিডার ব্যবহার করলেও তার নিপল বেশিদিন ব্যবহার কারা ঠিক নয়।
- শিশুদের যদি কোন বদঅভ্যাস থাকে যেমন দাঁত দিয়ে নখ কাটা বা আঙুল চোষা ইত্যাদি পরিহার করতে হবে।
- প্রতি ৬ মাসে অন্তত একবার দন্ত চিকিৎসকের কাছে দাঁত পরীক্ষা করানো উচিত। এই কথাটাকেই কেউ কেউ ভুল করে বলেন, বছরে দুইবার স্কেলিং করাতে হয়। এটা ঠিক নয়। কোন সমস্যা না থাকলে স্কেলিং করানোর কোন প্রয়োজন নেই।
- দাঁতের জন্য যে কোন সার্জিক্যাল চিকিৎসায় যাওয়ার পূর্বে বর্তমান রোগী যে সব ওষুধ খাচ্ছেন তা ডাক্তারকে জানাতে হবে। এছাড়া রোগীর রক্তপাত বন্ধ না হওয়া সম্পর্কিত কোন খারাপ অভিজ্ঞতা আছে কি না তাও জানতে হবে। সার্জারি সফল হওয়ার জন্য এগুলো জানা দরকার।
- শিশুদের পর্যাপ্ত যত্নে অভাবে নানা ধরনের দন্তরোগ দেখা যায় যা একটু সচেতন হলেই প্রতিরোধযোগ্য। এজন্য শিশুদের দাঁত ওঠার পর থেকেই তা পরিস্কার করতে হবে। সামনের দুধদাঁত ওঠার পর পরিস্কার ভেজা সুতি কাপড় দিয়ে তা ভালো করে মুছে দিতে হবে। বাচ্চা রাতে দুধ খাওয়ার পর পানি খাওয়ানো উচিত। কোন অবস্থাতেই শিশু যেন ফিডার মুখে নিয়ে না ঘুমায়। পেছনের দিকে দাঁত ওঠার পর শিশুকে সকালে ও রাতে দুবেলা ব্রাশ করে দিতে হবে।
- যে সব স্থানে ব্রাশ করা সম্ভব হয় না সে সব স্থানে ডেন্টাল ফ্লস ব্যবহার করা যায়।
- দাঁত পরিস্কার করার জন্য কয়লা, গুল, টুথপাউডার, ছাই, মাটি প্রভৃতি ব্যবহার করবেন না। এগলো দাঁতের লালচে ভাব ও দাগের জন্য দায়ী। এছাড়া অতিরিক্ত পরিমাণে পান- সুপারি, চা, কফি, তামাক প্রভৃতি পান করার কারণেও দাঁতে দাগ হতে পারে। এসব দাগ সাধারণ ব্রাশিং এর মাধ্যমে দুর করা সম্ভব নয়। স্কেলিং এবং পলিশিং এর মাধ্যমে এই দাগ দূর করতে হবে।
- আঁশযুক্ত এবং শক্ত খাবার যেমন পেয়ারা, আমড়া, আখ, গাজর ইত্যাদি মাড়ি ও দাঁতের জন্য ভালো। তাছাড়া চোয়ালেরে স্বাভাবিক গঠনের জন্যও এগুলো উপকারী।
- শিুশুদের কম ফ্লোরাইডযুক্ত পেস্ট ব্যবহার করা উচিত। স্বাদ, গন্ধ যত কম তত ভালো। নয়তো শিশু দাঁত মাজার পরিবর্তে পেস্ট খেয়ে ফেলবে।
- টক বা মিষ্টি খেলে যদি দাঁত শিরশির করে তাহলে চিকিৎসকের পরামর্শ নিন।
- বাবলগাম বা চুইংগাম এমনকি মাউথ ফ্রেসনারও দাঁতের জন্য ক্ষতিকর। এগুলো পরিহার করতে চেষ্টা করুন।
- কেক,পেস্ট্রি,মিষ্টি, চকলেট ইত্যাদি অনেকক্ষণ দাঁতে আটকে থাকে। তাই এসব খাওয়া উচিত মূল খাবার খাওয়ার আগে। তা না হলে এগুলো খাবার পর পানি দিয়ে কুলকুচি করতে হবে যেন তা দাঁতের ফাঁকে আটকে না থাকে।
- ঠান্ডা পানি লাগলে অনেকেরই দাঁত শিরশির করে। তার উপর ঠিক মতো দাঁত ব্রাশ না করলে দাঁতে জিঞ্জিভাইটিস দেখা দিতে পারে। তখন দাঁতের শিরশির ভাব আরো বেড়ে যায়। দাঁতে শিরশিরভাব কমানোর জন্য ডেন্টাল সার্জনরা সাধারণত বিশেষ ধরনের মেডিকেটেড টুথপেস্ট ব্যবহারের পরামর্শ দিয়ে থাকেন। এসব টুথপেস্টের বিশেষ উপাদান দাঁতে শিরশির করা দূর করে থাকে। করোর দাঁতে এ ধরনের সমস্যা থাকলে মেডিকেটড টুথপেস্ট ব্যবহার করতে পারেন। তবে দাঁতে শিরশির ভার দূর হওয়ার পরে মেডিকেটড টুথপেস্ট ব্যবহার করা ঠিক নয়। কারণ এসব মেডিকেটড টুথপেস্ট একনাগাড়ে ব্যবহার করলে দাঁতের স্বাভাবিক চকচকে ভাব কমে যেতে পারে। তাই নিয়ম হচ্ছে, দাঁত শিরশির ভালো হয়ে য়াওয়ার পর আবারো স্বাভাবিক টুথপেস্ট ফিরে যাওয়া।



.jpg)
.jpg)

.jpg)






