মূত্রনালীর সংক্রমণ আমাদের দেশে অতি সাধারণ জীবাণুবাহিত রোগ। প্রস্রাবের জ্বালাপোড়া নিয়ে অনেককেই ডাক্তারের শরণাপনড়ব হতে হয়। এই রোগের আক্রমণ ২০ বছর বয়সীদের মধ্যে ৩% দেখা যায়, প্রতি ১০ বছর বয়সীদের
(decade) মাঝে ১% হারে সংক্রমণের সম্ভাবনা বৃদ্ধি পায়। অর্থাৎ বয়স বৃদ্ধির সাথে এই রোগের প্রকোপ বৃদ্ধি পায়।
মহিলাদের তুলনায় পুরুষদের মাঝে এই রোগের প্রবণতা কম। তবে ৬০ বছরের বয়স্ক পুরুষ, প্রোস্টেট গ্রন্থির বৃদ্ধির
ফলে, মূত্রনালী কোন কিছু দ্বারা বাধাগ্রস্থ হলে- মূত্রনালী সংক্রমণ হতে পারে। এমনকি মূত্রনালী সংক্রমণের ফলে কিছু কিছু ক্ষেত্রে কিডনীর কার্যক্ষমতা নষ্ট হয়ে যেতে পারে।
মূত্রনালী সংক্রমণের কারণ: কিছু কিছু জীবাণু এই সংক্রমণের জন্য দায়ী। সেগুলো হল-
ক) E. Coli - অধিকাংশ ক্ষেত্রে দায়ী।
খ) অন্যান্য জীবাণুর মধ্যে Pseudomonas, Proteus, Streptococci, Staphylococcus epidermidis.
গ) হাসপাতালে সংক্রমণের অধিকাংশ কারণই হয় E.Coli এর মাধ্যমে।
ঘ) মূত্রনালীতে ক্যাথেটার ব্যবহার।
যাদের রোগ হওয়ার সম্ভাবনা বেশি :
পুরুষদের চেয়ে মহিলাদের মধ্যে মূত্র সংক্রমণের প্রকোপ বেশি। কারণসমূহের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হল-
১) মূত্রনালীর আকার ছোট।
২) সহবাসের সময় মূত্রনালীতে আঘাত।
৩) পায়ুপথ ও মূত্রনালীর কাছাকাছি অবস্থান।
৪) পুরুষদের ক্ষেত্রে প্রোস্টেট গ্রন্থি নিঃসৃত এক ধরণের তরল পদার্থ (Prostatic fluid) ব্যাকটেরিয়াকে বিনষ্ট করে- যা মহিলাদের ক্ষেত্রে নেই।
৫) মূত্রনালীতে পাথর।
৬) ডায়াবেটিস রোগী।
৭) বাচ্চাদের জন্মগত ভাবে মুত্রনালীতে অতিরিক্ত পর্দা (Posterior urethral valve) থাকলে বার বার প্রস্রাবে ইনফেকশন হয়।
উপসর্গ/লক্ষণঃ
(ক) প্রস্রাব ঘন ঘন হওয়া
(খ) প্রস্রাবের সময় মূত্রনালীতে জ্বালাপোড়া
(গ) পেটের নিচের অংশে ব্যথা অনুভূত হওয়া
(ঘ) প্রস্রাবে দুর্গন্ধ ও ঘোলাটে হওয়া
(ঙ) এমনকি প্রস্রাবের সাথে রক্ত পর্যন্ত যেতে পারে
(চ) জ্বর হওয়া (সাধারণত কেঁপে কেঁপে জ্বর আসে)
রোগ নির্ণয়:
মূত্রনালীতে জীবাণুর সংক্রমণ হয়েছে কি না, কিংবা সংক্রমণের পরবর্তী জটিলতা নির্ণয়ের জন্য ল্যাবরেটরি পরীক্ষা করার প্রয়োজন। উল্লেখযোগ্য পরীক্ষা-নিরীক্ষা হল-
ক) মূত্রের নমুনা সংগ্রহকরণ ও অণুবীক্ষণযন্ত্রে পরীক্ষাকরণ (Urine for R/E);
খ) মূত্রের কালচার (culture) ও সেনসিটিভিটি (Sensitivity) টেস্ট;
গ) প্লাজমা ইউরিয়া ও ক্রিয়েটিনিন এর পরিমাণ নির্ণয়;
ঘ) সিবিসি ও ব্লাড কালচার;
ঙ) পেটের আল্ট্রাসনোগ্রাফি ও কিডনি ও মূত্র সংবহনতন্ত্রের (KUB Region) প্লেইন এক্স-রে করা।
জ) সিসটোস্কপি (cystoscopy)- যদি প্রস্রাবের সাথে রক্তক্ষরণের ইতিহাস থাকে।
চিকিৎসা :
এই রোগে চিকিৎসার চেয়ে প্রতিরোধের গুরুত্ব অধিক। এজন্য যা করণীয় তা হল-
১। প্রতিদিন কমপক্ষে ২-৩ লিটার পানি গ্রহণ।
২। স্বামী সহবাসের পূর্বে ও পরে প্রস্রাব করা।
৩। প্রস্রাব আটকায়ে রাখার অভ্যাস ত্যাগ করা।
৪। নিমেড়বাক্ত ওষুধগুলোর মূত্র সংক্রমণের চিকিৎসার জন্য দেওয়া যেতে পারে। সিপ্রোফ্লক্সাসিন (ciprofloxacin), ট্রাইমেথোপ্রিম (Trimethoprim) বা কোঅ্যামোক্সিক্লাভ (co-amoxiclav).



.jpg)

.jpg)






